স্বদেশ আইটি
বাংলাদেশী পাসপোর্ট

পাসপোর্ট মিলবে একদিনেই, জেনে নিন কিভাবে পাবেন

বাংলাদেশী পাসপোর্ট :

বাংলাদেশী পাসপোর্ট বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বিদেশে ভ্রমণের কাজে ব্যবহৃত একটি দলিল। জন্ম সূত্রে বা অভিবাসন সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে বাংলাদেশ সরকার এটি প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিস বা বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাস হতে পাসপোর্ট দেওয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট ইসরাইল ব্যতীত পৃথিবীর আর সকল দেশে ভ্রমণের অনুমতি রয়েছে।

বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রকারভেদ :

বাংলাদেশী পাসপোর্ট তিন প্রকার। বাংলাদেশ সরকারের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রকারভেদ অনুযায়ী এদেশের নাগরিকদেরকে তিন প্রকারের বাংলাদেশী পাসপোর্ট প্রদান করে থাকে। যথাঃ

১) আন্তর্জাতিক সাধারণ পাসপোর্ট (সবুজ মলাট)
২) সরকারী পাসপোর্ট (নীল মলাট)
৩) কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল মলাট)

একদিনেই যেভাবে মিলবে পাসপোর্ট :

জরুরী প্রয়োজনে একদিনেই পাসপোর্ট দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিস এর আওতায় আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিস এর আওতায় পাসপোর্ট নবায়ন এমনকি নতুন পাসপোর্ট তৈরিতে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে এর জন্য কিছু বাড়তি ফিস গুণতে হবে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান বলেন, ক্ষেত্র বিশেষে পাসপোর্টের জন্য কেউ সকালে আবেদন করলে সন্ধ্যার মধ্যেই পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিস চালু করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমরা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। রোগীদের জরুরী প্রয়োজন ও ভিসার মেয়াদ রয়েছে কিন্তু পাসপোর্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে এমন অভিবাসী কর্মীদের কথা চিন্তা করে এটা করা হয়েছে।

এমন কিছু জরুরী কারণেই সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট চালু করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান বলেন, যদি কেউ একদিনে পাসপোর্ট পেতে চায় তাহলে তাকে ব্যাংকে জরুরী পাসপোর্টের জন্য ফি জমা দিয়ে, দুপুর ১২টার আগে আবেদন জমা দিতে হবে। ১২টার আগে আবেদন পেলে সন্ধ্যার দিকে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে।

মানবিক দিক বিবেচনা করে বর্তমানেও এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে। এখন এই সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত করতে চায় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিসে দুদিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও এক দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে যাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন নেই তারা সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিসে পাসপোর্ট নিতে পারবেন না।

বর্তমানে দুই ক্যাটাগরিতে পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবে ৩,৪৫০ টাকা ফি দিয়ে পাসপোর্ট পেতে ন্যূনতম ২১ দিন সময় লাগে। আর এক্সপ্রেস সার্ভিসে দ্রুত পাসপোর্টের জন্য খরচ লাগে ৬,৯০০ টাকা। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নতুন সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিস চালু হলে এর জন্য খরচ হবে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে।

বর্তমানের ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের পাশাপাশি ঘন ঘন বিদেশ সফর করতে হয় এমন মানুষদের কথা মাথায় রেখে ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর যারা পড়ালেখা বা কাজের জন্য বিদেশ যাচ্ছেন তাদের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে।

গত ২১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ই-পাসপোর্ট ও অটোমেটিক বর্ডার কনট্রোল সিস্টেম চালু করার জন্য ৪,৬৩৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোচিপ সম্বলিত এই পাসপোর্ট দেওয়া শুরু হবে। বর্তমানে যারা মেশিন রিডেবেল পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন নবায়নের সময় তাদের ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। তবে মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরনো পাসপোর্ট ব্যবহার করা যাবে।

ফয়সাল আহমেদ

খুব সাধারণ একজন মানুষ। নিজের সম্পর্কে বলার তেমন কিছুই নেই। লেখাপড়া শেষ করেছি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিকেই বেছে নিয়েছি পথ চলার সঙ্গী হিসেবে। কাজ করি ডিজাইন, ডেভেলপিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে। ভালবাসি আইটি সংক্রান্ত নতুন কিছু শিখতে। আমার শেখা তখনই স্বার্থক যখন সেটা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি। আর এই জন্যই প্রতিষ্ঠা করেছি স্বদেশ আইটি।

Add comment

বিভাগ সমূহ