স্বদেশ আইটি
শাওমি মোবাইল

নকল শাওমি মোবাইল ফোন চেনার সহজ উপায়

খুব অল্প সময়ের মধ্যে শাওমি ব্রান্ড টেক জগতে বিশাল জায়গা দখল করে নিয়েছে। স্যামসাং কিংবা অ্যাপেলের মতো টেক জায়ান্টের সাথে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করছে শাওমি ব্রান্ড। এই প্রবল জনপ্রিয়তার জন্য শাওমি ব্রান্ডকেও মাঝে মধ্যে পড়তে হয়েছে নকল কিংবা রিফারবিশডের ফাঁদে।

সুতরাং আপনার শখের শাওমি মোবাইল কেনা নিয়ে টেনশনে আছেন? আসল নাকি নকল! জেনুইন নাকি রিফারবিশড ইত্যাদি ভাবনায় মাথার চুল পড়ে টাক বেল হয়ে যাচ্ছে। তাহলে আসুন জেনে নেই কিভাবে আমরা শাওমি মোবাইল ফোন এর সত্যতা (Authenticity) চেক করতে পারি।

নকল শাওমি মোবাইল ফোন চেনার উপায় :

১) Mi Verification App Method
২) Do Benchmark Test
৩) Check the MIUI ROM Version
৪) Authentication Label Method
৫) Install Stock MIUI ROM
৬) In Box Accessories
৭) Physical Comparison
৮) Compare the Price

Mi Verification App Method :

বাজারে শাওমির অনেক নকল প্রোডাক্ট ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে শাওমি অফিশিয়াল অবহিত হয়ে একটি অ্যাপ ডেভেলপ করেছে। প্রথমে আপনি স্মার্টফোনে Mi Verification App ডাউনলোড করে ইন্সটল করুন। Mi Verification App ডাউনলোড করার জন্য গুগলে Mi Verification লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন।

এরপর ল্যাপটপ কিংবা পিসি দিয়ে এই লিংকে গিয়ে বারকোডটি স্ক্যান করবেন Mi Verification App দিয়ে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর দেখবেন ল্যাপটপ কিংবা পিসিতে দেখাচ্ছে ভেরিফিকেশন কনফার্মেশন।

Do Benchmark Test :

এক্ষেত্রে আপনি AnTuTu অথবা GeekBench টেস্ট করে দেখতে পারেন। যদি গড়ে আকাংখিত রেজাল্ট না আসে তবে ধরে নিতে আপনার শাওমি মোবাইল ফোনে সমস্যা আছে। গড় স্কোর সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করে মিলিয়ে দেখতে পারেন আপনার ডিভাইসে পাওয়া স্কোরের সাথে। উদাহরণ– Xiaomi Redmi Note 5 Ai ভার্সনে গড়ে AnTuTu স্কোর আসবে ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৬৭৫ তবে একটু কম বেশি হতে পারে।
এখন যদি আপনার সদ্য কেনা শাওমি মোবাইল ফোনে বেঞ্চমার্ক টেস্ট করে উপরোক্ত রেজাল্ট না পান তবে বুঝে নিতে হবে আপনার শাওমি মোবাইল ফোনে ঝামেলা আছে।

Check the MIUI ROM Version :

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নকল শাওমি মোবাইল ফোন গুলোতে থাকে কাস্টম রম। ফলে প্রথমেই আপনি আপনার ফোনের রম চেক করুন। কনফার্ম হতে না পারলে গুগলের সাহায্য নিন। অথবা এই লিংকে গিয়ে আপনার ডিভাইসটি সিলেক্ট করে রম ভার্সন চেক করে নিন।

Authentication Label Method :

এই ক্ষেত্রে আপনার শাওমি মোবাইল ফোনের বক্সটি লাগবে। আপনার ফোনের বক্সের পিছনে একটি নিরাপত্তা স্টিকার (সব শাওমি মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে নয়) লাগানো থাকে। যেখানে ২০ ডিজিটের একটি সংখ্যা থাকে যা আপনাকে স্ক্রাচ করে উঠিয়ে ভেরিফাই করতে হবে। যদি নিরাপত্তা স্টিকার না থাকে তবে একটি সিরিয়াল নম্বর ও IMEI তথ্য থাকবে। যা আপনি এই লিংকে প্রবেশ করিয়ে সহজেই চেক করতে পারবেন অথেন্টিসিটি।

Install Stock MIUI ROM :

আপনি যদি নকল শাওমি মোবাইল ফোনে অফিশিয়াল স্টক রম দেন তবে তা ব্রিক হয়ে যাবে। এটার কারণ খুব সিম্পল। যখন আপনি নকল শাওমি মোবাইল ফোনে অফিশিয়াল রম মারতে যাবেন তখন সিস্টেম বিভিন্ন প্যারামিটার চেক করে দেখে। যেমন- ডিভাইস কোড নেম হার্ডওয়্যার চেক, ডিজিটাল সিগনেচার, ফার্মওয়্যার চেক ইত্যাদি। যা নকল শাওমি মোবাইল ফোনের সাথে ফলাফল মেলেনা ফোন ব্রিক বা ডেড হয়ে যায়।

In Box Accessories :

সবসময় শাওমি মোবাইল ফোনের বক্সে থাকা সব এক্সেসোরিস চেক করে নেবেন। যেমন- চার্জার ও ডাটা ক্যাবল প্লাস্টিকের মোড়কে স্টিকার দ্বারা সিল করা থাকে। উক্ত স্টিকারে দুটিতে বারকোড স্টিকার ও সিরিয়াল থাকে। আপনি QR কোড স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করলে উক্ত স্টিকারের সিরিয়ালের সাথে মিলে যাবে ডিসপ্লেতে শো করা সিরিয়াল।

Physical Comparison :

এক্ষেত্রে লাগবে আপনার তীক্ষ্ণ কমন সেন্স। এছাড়াও প্রখর দৃষ্টি শক্তি ও প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল জ্ঞান। যেমন- আপনি ফোন কিনতে যাবার আগে আত্মীয় কিংবা বন্ধুদের সেট দেখে যেতে পারেন। কিনতে গিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে পারেন ফোনের ফিনিশিং, বিল্ড কোয়ালিটি, লোগো ইত্যাদি। এছাড়াও ইউটিউব থেকে দেখে যেতে পারেন রিভিও। ফলে আপনি শাওমি মোবাইল ফোন কিনতে যাওয়া আকাংখিত ফোনের একটি বাহ্যিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

Compare the Price :

এক্ষেত্রে আপনি প্রথমে চায়নার রিটেইল দামটি জেনে নিতে পারেন ওয়েবসাইট থেকে। তারপর সেটা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করে, ট্যাক্স, ক্যারিং খরচ প্লাস যৌক্তিক লাভ/ প্রফিট যোগ করে যে দামে আপনি শাওমি মোবাইল ফোন কেনা আশা করেন তার থেকে কম দামে কেউ বিক্রি করতে চাইলে বুঝে নিতে পারেন নকল ফোন সেটা। কারণ চায়না রিটেইল প্রাইসের চেয়ে কমে আপনাকে কে ফোন দেবে? ব্যবসায়ীরা তো আর চ্যারিটি সার্ভিস করতে বসে নেই।

ফয়সাল আহমেদ

খুব সাধারণ একজন মানুষ। নিজের সম্পর্কে বলার তেমন কিছুই নেই। লেখাপড়া শেষ করেছি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিকেই বেছে নিয়েছি পথ চলার সঙ্গী হিসেবে। কাজ করি ডিজাইন, ডেভেলপিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে। ভালবাসি আইটি সংক্রান্ত নতুন কিছু শিখতে। আমার শেখা তখনই স্বার্থক যখন সেটা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি। আর এই জন্যই প্রতিষ্ঠা করেছি স্বদেশ আইটি।

Add comment

বিভাগ সমূহ