স্বদেশ আইটি
মেড ইন বাংলাদেশ

মেড ইন বাংলাদেশ মোবাইল আমাদের জাতীয় গৌরব

মেড ইন বাংলাদেশ শ্লোগান নিয়ে আরো একটি মোবাইল ফোন কারখানার শুভ উদ্বোধন করলেন- ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

গত ১২ ই অক্টোবর গাজীপুরের ছয়দানায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আল আমিন ব্রাদার্সের ফাইভ স্টার ব্র্যান্ডের মোবাইল কারখানার শুভ উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী।

মোবাইল কারখানার শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের বিদ্যমান বাজার শতকরা সত্তর ভাগ দেশীয় কোম্পানির আয়ত্তে এবং এই পণ্য গুলো বাংলাদেশ থেকেই উৎপাদিত। এই অর্জন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ফসল।

তিনি আরো বলেন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, শিক্ষিত বেকারত্ব। দেশীয় এইসব কোম্পানি সমূহে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতরা দক্ষতার সাথে কাজ করছে। গুণগত মানের দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত মোবাইল ফোন কর্ম সংস্থানের পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। সর্বোপরি মেড ইন বাংলাদেশ মোবাইল আমাদের জাতীয় গৌরব এর বিষয়।

দেশে ডিজিটাল ডিভাইস আমদানি নিরুৎসাহিত করার জন্য ২০১৫ সালে ডিজিটাল টাস্কফোর্স বৈঠকের তার দেওয়া প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি এবং রপ্তানি করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বান্ধব নীতির ফলে সৌদি আরবে আইওটি পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। নাইজেরিয়া এবং নেপালে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ রপ্তানি করছে।

পণ্যে গুণগত মান বজায় রেখে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উৎপাদনে কঠোর নজর দিতে উদ্যোক্তাদের মনোযোগী হওয়ার আহবান জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসি কোন প্রকার ছাড় দিবে না। যেন তেন পণ্য নয় বরং গুণগত মানের পণ্যই হবে মেড ইন বাংলাদেশ এর পণ্য। তিনি বলেন, অতীতে ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে কেবল মাত্র নাঙ্গল-জোয়ালের অগ্রগতি ছাড়া এই ভূখন্ডে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি।

২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছেছে। এবং বাংলাদেশকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ অনুসরণ করছে। ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশকে নিয়ে গবেষণা করছে। বাংলাদেশ শিল্প বিপ্লবে এগিয়ে যাওয়ার মূল মন্ত্রটা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর মত দূরদৃষ্টি জ্ঞান সম্পন্ন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব ও মেধাবী তরুণ সমাজ। আমাদের নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা ভূ উপগ্রহ কেন্দ্র পরিচালনায় সক্ষম।

বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ ও তরুণ মানব সম্পদের কারণে বিদেশী বিনিয়োগ কারীদের জন্য বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর ৪২ তম অর্থনৈতিক শক্তি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৬ তম। মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কারখানার বিভিন্ন প্রোডাকশন প্যানেল পরিদর্শন করেন ও বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত কর্মীদের কাছে তাদের কাজের অভিজ্ঞতার কথা শুনেন।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: জাহাঙ্গীর আলম, বিটিআরসি এর চেয়ারম্যান মো: জহিরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এর সাবেক মহাসচিব মনিরুল হক, বিটিআরসি এর কমিশনার আমিনুল হাসান ও ফাইভ স্টার কোম্পানির চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ বক্তৃতা দেন।

ফয়সাল আহমেদ

খুব সাধারণ একজন মানুষ। নিজের সম্পর্কে বলার তেমন কিছুই নেই। লেখাপড়া শেষ করেছি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিকেই বেছে নিয়েছি পথ চলার সঙ্গী হিসেবে। কাজ করি ডিজাইন, ডেভেলপিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে। ভালবাসি আইটি সংক্রান্ত নতুন কিছু শিখতে। আমার শেখা তখনই স্বার্থক যখন সেটা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি। আর এই জন্যই প্রতিষ্ঠা করেছি স্বদেশ আইটি।

Add comment

বিভাগ সমূহ