স্বদেশ আইটি
সোশ্যাল লাইফ হ্যাক

এই সেরা ১০টি সোশ্যাল লাইফ হ্যাক! যা সকলের জন্য জরুরি

কিছু মানুষ খুব স্বাভাবিক ভাবেই সমাজে তাদের জায়গা করে নিতে পারে। কিন্তু কিছু মানুষ পিছনে পড়ে যায় তাদের সামাজিক দক্ষতা না থাকার কারণে। অনেকেই আবার অন্যদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করতে পারে না এই সামাজিক দক্ষতা না থাকার কারণেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এইসব পরিস্থিতিতে নিজেকে সে একাকী মনে করা শুরু করে।

এখন নিজেকে পরিবর্তন করার সময় এসেছে। শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য নয় বরং সামাজিক ভাবে সাফল্য অর্জন করার জন্য নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে হবে। তাই আজকে আমরা আপনাদেরকে জানবো, সামাজিক বৃত্তে সফল হওয়ার জন্য ১০টি সেরা সোশ্যাল লাইফ হ্যাক!

প্রায় প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন কিছু স্বভাব থাকে যা তার জীবন অসুখী হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদি আমরা কিছু কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে নেই, তবে সমাজে সকলের নিকটেই ভালো থাকতে পারবো ও জীবন সুখী হবে। আসুন ব্যক্তি জীবনে, পারিবারিক জীবনে, চাকরি জীবনে ও সর্বোপরি সামাজিক জীবনে সুখী হওয়ার জন্য কিছু সোশ্যাল লাইফ হ্যাক সম্পর্কে জানি।

সেরা ১০টি সোশ্যাল লাইফ হ্যাক :

১। হঠাৎ করে কথোপকথন শেষ করার পদ্ধতি

এমন কিছু মানুষ আছে যারা একবার কথা বলা আরম্ভ করলে আর বন্ধ করে না। এক্ষেত্রে আপনার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ওহ! আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে, আনাড়িদের মতো কথোপকথন শেষ করবেন না। বরং আপনার হাতটি তার কাঁধে রাখুন ও আস্তে ধীরে বলুন এখন আপনার যেতে হবে।

২। হঠাৎ করে কারো মতের সাথে একমত হবেন না

আলোচনার মাঝ পথে বা শুরুতে কোনকিছু না বুঝে সম্মতি দিবেন না। উক্ত বিষয় সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করুন। প্রশ্নটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করুন, যাতে ঐ ব্যক্তি আপনাকে জ্ঞানী ও সত্যিকারের মানুষ হিসাবে বিশ্বাস করতে পারে। এছাড়াও হঠাৎ করে কোনো বিষয়ে অনুমানের ভিত্তিতে সম্মতি দিলে পরবর্তীতে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

৩। কেউ অপমান করলে গালাগালি বা তর্ক করবেন না

কেউ যদি আপনাকে অপমান করে তবে সর্বোচ্চ একটু মুচকি হাসি দিন। এর মানে এই নয় যে, আপনিও অপমান করতে কিংবা জবাব দিতে জানেন না। বরং এই রকম পরিস্থিতিতে চুপ থাকাটাই সবচেয়ে ভালো। একসাথে সবাই যদি আপনার সাথে মজা করে অথবা অপমান করতে শুরু করে, তবে মনোযোগ দিয়ে সেই কথা গুলো শুনুন আর উপভোগ করুন। কারণ এতে করে, আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কি পরিমাণ হেটার্স আপনার সফলতাকে সহ্য করতে পারেনা।

৪। চালাক চতুর মানুষ চিনে রাখুন

আপনি যখন আপনার কোনো উপকারের জন্য কারো নিকট সাহায্য চাচ্ছেন, তখন তাদের তিনটি বিকল্প উপায় দিন। ছোট খাট সাহায্য, বড় ধরনের সাহায্য, অসম্ভব রকম সাহায্য। চালাক চতুর ব্যক্তিরা সবসময় সহজ বিষয়টিকেই বেছে নিবে। এই ধরনের ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন।

৫। চুয়ংগাম চাবাবেন না

সব জায়গায় চুয়ংগাম খাওয়া উচিত নয়। তবে যদি আপনি কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে নার্ভাস থাকেন, তাহলে চুয়ংগাম খেতে পারেন। অধিকাংশ গবেষকের মত অনুযায়ী চুয়াংগাম নার্ভাসনেস দূর করতে সাহায্যে করে।

৬। সবসময় সব জায়গায় উদারতা দেখাবেন না

যখন কোনো বন্ধু বা অফিসের সহকর্মী অথবা কোনো গ্রুপের সাথে থাকবেন, চেষ্টা করবেন তখন নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখার। তাদের সবকিছুতেই সম্মতি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তারা কোনো কিছু অফার করলেই সেটা নেওয়ার দরকার নেই। কারণ পৃথিবীতে এখনো অনেক মানুষ আছে, যারা আপনাকে কোনকিছু দেওয়ার পর বলতে পারে, তোমার পিছনে আমি অনেক টাকা খরচ করেছি।

৭। নোট করার অভ্যাস করুন

প্রতিদিনের কাজ কিংবা আপনার লক্ষ্য গুলো নোট করে রাখুন। এই অভ্যাস আপনার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে। পৃথিবীর সকল বুদ্ধিমান ও সফল ব্যক্তিরা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের নোট রাখেন।

৮। প্রকৃত বন্ধুকে খুঁজে বের করুন

জীবনে চলার পথে একজন ভালো বন্ধু, মরুভূমিতে থাকা ছায়ার মতো কাজ করে। আপনার প্রকৃত বন্ধুকে জানতে চান? সবাইকে জানান আপনার হাতে তেমন কোন টাকা পয়সা নাই আপনি খুব সমস্যায় আছেন। এরপরও দেখুন কোন কোন বন্ধু আপনার সাথে যোগাযোগ রাখে কিংবা তার কোনো অনুষ্ঠানে আপনাকে দাওয়াত করে। এখান থেকে আপনার সত্যিকারের প্রকৃত বন্ধু পেয়ে যাবেন।

৯। মানুষের শারীরিক ভাষার উপর লক্ষ্য রাখুন

অনেক সময় মানুষের শরীরের ভাষা অনেক সত্য প্রকাশ করে। আমাদের হাত, পায়ের পাতা ও চোখ অনেক কিছুই প্রকাশ করে। কারো সাথে কথা বলার সময় এইসব দিকে দৃষ্টি রাখতে পারেন। যাতে তার মনের কথা আপনি জানতে পারেন আর ঐ ভাবে তার সাথে চলতে পারেন।

১০। মানুষ কি ভাবছেন তা নিয়ে বেশী মাথা ঘামাবেন না

প্রতিটি সমাজেই এমন কিছু লোক থাকে, যারা আপনার সকল কাজকে অবজ্ঞা ও হেয় প্রতিপন্ন করে। এইসব লোকের কথাবর্তায় আপনি গুরুত্ব দিবেন না। কারণ এরা আপনার ভালো কাজ কিংবা খারাপ কাজ সবকিছুকেই অবজ্ঞা করবে। বলতে পারেন এরা আপনার জীবনে পথের কাঁটা।

মোট কথা :

সামাজিক জীবনে সুখী হওয়া এবং সবার সাথে মিলে মিশে থাকার জন্য এই ছোট ছোট সোশ্যাল লাইফ হ্যাক গুলো আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। এমনকি, এই ছোট ছোট সোশ্যাল লাইফ হ্যাক গুলো আপনার জীবনে কখনো কখনো বড় ধরনের সফলতা এনে দিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ফয়সাল আহমেদ

খুব সাধারণ একজন মানুষ। নিজের সম্পর্কে বলার তেমন কিছুই নেই। লেখাপড়া শেষ করেছি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিকেই বেছে নিয়েছি পথ চলার সঙ্গী হিসেবে। কাজ করি ডিজাইন, ডেভেলপিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে। ভালবাসি আইটি সংক্রান্ত নতুন কিছু শিখতে। আমার শেখা তখনই স্বার্থক যখন সেটা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি। আর এই জন্যই প্রতিষ্ঠা করেছি স্বদেশ আইটি।

Add comment

বিভাগ সমূহ